বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২২nd জানুয়ারি ২০১৫

গত ৫ বছরে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প

২০০৯-২০১০ হতে ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছর পর্যন্ত ৫ বছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭টি প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। সমাপ্ত প্রকল্পসমূহের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের সাফল্য ও অর্জন নিম্নরূপ:

 

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন
 

এ্যাপ্লিকেশন অব রেডিয়েশন প্রসেসিং টেকনোলজি ফর ম্যাটেরিয়ালস পাইলট প্ল্যান্ট  ইনস্টিটিউট অব পলিমার টেকনোলজিঃ

এই প্রকল্পটির মাধ্যমে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ৩৫০ (কিলো কিউরি) কোবাল্ট-৬০ গামা সোর্স স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গামা সোর্সটি ব্যবহার করে নানাবিধ মেটিরিয়াল উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও বিভিন্ন মেডিক্যাল সামগ্রীর স্টেরিলাইজেশন সংক্রান্ত কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে বিকিরণ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাইলট প্ল্যান্টের গামা রশ্মির বিকিরণ ব্যবহার করে উন্নতমানের পণ্য তৈরি, পোড়া ঘা নিবারনের জন্য হাইড্রোজেল উৎপাদন, ন্যাচারাল রাবার থেকে সার্জিক্যাল দস্তানা এবং পলিমার কম্পোজিট তৈরিসহ বিভিন্ন নতুন নতুন পণ্য তৈরি বা তৈরি পণ্যের গুণগতমান উন্নতকরণের কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া, গামা রশ্মির বিকিরণ ব্যবহার করে বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য (মাছ, মাংস, মশলা, শস্য, ইত্যাদি) জীবাণুমুক্তকরণ ও সংরক্ষণের সময়সীমা বাড়ানোর কার্যক্রমও এখানে চালু আছে।

 

ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার সায়েন্স এন্ড  টেকনোলজি: (ক) ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ল্যাবরেটরী ফ্যাসিলিটিজ এবং (খ) ট্যান্ডেম এ্যাক্সিলারেটর ফ্যাসিলিটিজ স্থাপনঃ
এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি আধুনিক ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। এতে সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রদানের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এছাড়া, এই প্রকল্পের আওতায় পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (আইএনএসটি-এর) বিভিন্ন গবেষণাগারের ব্যাপক উন্নয়ন সফলভাবে সম্পন্ন করাসহ একটি 3MV Tandem Accelerator এবং  এ সংক্রান্ত আনুষাঙ্গিক বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সফলভাবে স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। Tandem Accelerator ব্যবহার করে বর্তমানে কমিশনের বিভিন্ন কেন্দ্র/ইনস্টিটিউট/ইউনিটসহ সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রকার নমুনা বিশ্লেষণের কাজ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাভারস্থ ট্যান্ডেম এক্সিলারেটর গবেষণাগার পরিদর্শন করছেন
                              মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 

ট্রিগা মার্ক-২ গবেষণা চুল্লীর ব্যবহার শক্তিশালীকরণঃ
প্রকল্পের আওতায় একটি High Performance Neutron Powder Differactometer সংগ্রহপূর্বক গবেষণা চুল্লীর রেডিয়াল বীমপোর্ট-২ এ স্থাপন করা হয়েছে। দু'টি গামা-রে স্পেক্ট্রোমেট্রি সিস্টেম সংগ্রহপূর্বক অ্যাক্টিভেশন এনালাইসিস গবেষণাগারে স্থাপন এবং একটি ডিজিটাল নিউট্রন রেডিওগ্রাফী যন্ত্র সংগ্রহপূর্বক গবেষণা চুল্লীর ট্যানজেন্সিয়াল বীমপোর্ট-এ স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এসব যন্ত্রপাতি সংগ্রহের মাধ্যমে নিউট্রন স্ক্যাট্যারিং, নিউট্রন অ্যাক্টিভেশন এনালাইসিস ও নিউট্রন রেডিওগ্রাফী পরীক্ষণ সুবিধাদি বহুলাংশে সমৃদ্ধ ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে একাধিক উন্নত প্রযুক্তির গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিক সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকবৃন্দ এমএসসি, এমফিল, পিএইচডি, প্রভৃতি উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য এসকল গবেষণাগার ব্যবহার করছেন।

 

নবজাতকের মধ্যে জন্মগত হাইপোথায়রয়েড রোগের প্রাদুর্ভাব সনাক্তকরণঃ
বাংলাদেশের জনসংখ্যার ২৭% থাইরয়েড জনিত রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশের আয়োডিন ঘাটতি এলাকায় Congenital Hypothyroid এর প্রাদুর্ভাব বেশী হয়। প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে ২৩০০ জনের মধ্যে একজন ঐ রোগে আক্রান্ত হয় যা বিশ্ব মানের (১:৪০০০) তুলনায় অনেক বেশী। প্রতি বছর ২৪০০ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়। এ প্রকল্পের অধীনে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড আল্ট্রাসাউন্ড (INMU, Dhaka) এ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সুবিধাদিসহ  New born Screening Central Laboratory স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্প মেয়াদকালে মোট ২ লক্ষ নবজাতক শিশুর  Screening করা হয়েছে। দেশের ১৪টি পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রের নিকটবর্তী ৩৩টি থানা এ প্রকল্পের কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।

 

বাংলাদেশে VLSI প্রযুক্তির জন্য সেন্টার অফ এক্সিলেন্স স্থাপনঃ এই প্রকল্পের আওতায় ভেরি লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন (VLSI) Design Laboratory স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ Clean Room প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে  ISO-5(Class-100), ISO-6(Class-1,000), ISO-7(Class-10,000), ISO-8(Class-100,000) মানের কক্ষ/চেম্বার স্থাপন এবং একটি Design Laboratory তৈরিসহ মাইক্রোইলেক্ট্রনিক্স গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়েছে। এসকল যন্ত্রপাতি সরকারি/ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীগণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এমএসসি/ এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করছেন। এর ফলে দেশে প্রথমবারের মত ডিজিটাল উচ্চ প্রযুক্তির গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে মানব সম্পদ উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে।

ভেরি লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন ল্যাবরেটরী

 

ইনস্টিটিউট অব ফুড এন্ড রেডিয়েশন বায়োলজি (আইএফআরবি)-এর অবকাঠামো উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিকরণঃ
প্রকল্পের আওতায় খাদ্য ও খাদ্যজাত দ্রব্য হতে রোগ সৃষ্টিকারী জীবানু, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ এবং পরজীবী পোকা দূরীকরণ, খাদ্যজাত দ্রব্য সংরক্ষণে অর্থনৈতিক/বাণিজ্যিক গ্রহনযোগ্যতা প্রদর্শন এবং ওষধ ও স্বাস্থ্যসেবা উপকরণের মানোন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে। বিএসটিআই ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মত নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে বিকিরণ প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর নিকট পৌঁছানো এবং পেশাজীবি, নীতিনির্ধারক, ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিকিরণ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে প্রচার এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।

 

কক্সাজার পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র ও একটি Sterile Insect Unit স্থাপনঃ
পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র, চট্রগ্রামে মাত্রাতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকায় অনেক রোগী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কক্সাজার পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র ও একটি Sterile Insect Unit স্থাপনের ফলে বঞ্চিত রোগীদের তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহারের মাধ্যমে থাইরয়েড, কিডনী, লিভার ও হাড়ের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের কঠিন ও জটিল রোগ নির্ণয় করা ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।  এছাড়াও এই কেন্দ্রের মাধ্যমে কক্সবাজারসহ পার্শ্ববতী জেলাসমুহের দরিদ্র জনগোষ্টিকে উন্নত পরমাণু চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। অপরদিকে, কক্সবাজারে একটি Sterile Inscet Technique Unit স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সোনাদিয়া দ্বীপসহ অন্যান্য এলাকায় শুষ্ক মাছের কীট দমন করা যাবে।

 

পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র  বগুড়া, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রংপুর এর গবেষণা ও সেবা সম্প্রসারণ ও টিসি-৯৯কীট উৎপাদনঃ

পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র  বগুড়া, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রংপুর এর গবেষণা ও সেবামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধিকল্পে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বগুড়ায় নির্মাণাধীন হাসপাতালে পরমাণু চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে গবেষণা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনার্থে আবশ্যক TC-99 আইসোটোপ কীট উৎপাদনের লক্ষ্যে পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাভার-এ টিসি-৯৯কীট ল্যাবরেটরী স্থাপন করা হয়েছে।


                         পরমাণু চিকিৎসা সেবায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার

 

চট্টগ্রাম পরমাণু শক্তি কেন্দ্র স্থাপনঃ

পরমাণু শক্তি ও বিকিরণ প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ও মানব কল্যাণে এর ব্যবহার এবং এ প্রযুক্তির উপর সুষ্ঠুভাবে গবেষণা পরিচালনার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে একটি বিশেষায়িত পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানীকৃত খাদ্য ও খাদ্যজাত সামগ্রীর তেজষ্ক্রিয়তার মাত্রা পরীক্ষণ, পরিবেশগত বিকিরণ গবেষণা, পরীক্ষণ মনিটরিং এবং তেজষ্ক্রিয় দূষণ মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়েছে, যা বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ ও সংশ্লিষ্ট মান উন্নয়নে সহায়ক হচ্ছে। এছাড়া, জাহাজভাঙ্গা শিল্পের জাহাজের স্ক্র্যাপ এবং ব্যবহারকারী শিল্প কারখানাতে এর বিকিরণ  মনিটরিং ও বিকিরণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ সেবা প্রদান এবং অন্যান্য খনিজ আহরণের কাজে ব্যবহৃত আমদানীকৃত তেজষ্ক্রিয় পদার্থ পরিবহনের সময় বিকিরণ নিরাপত্তা সেবা প্রদান পরিচালিত হচ্ছে। স্থল ও নৌবন্দর এবং শুল্ক কর্তৃপক্ষকে তেজষ্ক্রিয় পদার্থবাহী পণ্যের পরীক্ষায় সহায়তাকরণ ও এ কেন্দ্রের বহুবিধ কার্যক্রমের অন্যতম অংশ।

চট্টগ্রাম পরমাণু শক্তি কেন্দ্র

পরমাণু চিকিৎসা  ও আলট্রাসাউন্ড কেন্দ্র মিটফোর্ড, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর এর সুবিধাদি শক্তিশালীকরণঃ পরমাণু চিকিৎসা ও আলট্রাসাউন্ড কেন্দ্র, মিটফোর্ড, কুমিল্লা ও ফরিদপুর এ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য নতুন সাবষ্টেশন স্থাপনসহ নতুন জেনারেটর ক্রয় করে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে। তাছাড়া, বিভিন্ন গবেষণাগার ও ভবনের অবকাঠামোর মেরামত ও সংস্কার করা হয়েছে ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন SPECT-CT Camera, Dual Head SPECT camera, Thyroid uptake system, 4D color doppler ultrasound system, RIA system সংগ্রহ করে এ তিনটি কেন্দ্রকে আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রম বৃদ্ধির সাথে সাথে গবেষণা কাজও বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)
 

ডেভেলপমেন্ট অব আইএসও ১৭০২৫ অ্যাক্রিডেটেড ইনস্ট্রুমেন্টেশন এন্ড কেলিব্রেশন সার্ভিস ল্যাবরেটরি ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টঃ

অ্যাক্রিডেটেড ইনস্ট্রুমেন্টেশন এন্ড কেলিব্রেশন সার্ভিস প্রদানের লক্ষ্যে "ডেভেলপমেন্ট অব আইএসও ১৭০২৫ অ্যাক্রিডেটেড ইনস্ট্রুমেন্টেশন এন্ড কেলিব্রেশন সার্ভিস ল্যাবরেটরি ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্ট" শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে পণ্যের গুণগতমান নিরূপন ও পরিমাপ যন্ত্রপাতির অ্যাক্রিডেটেড ক্রমাঙ্কণ, স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানের সাথে নিরবচ্ছিন্ন তুলনাসমেত রাসায়নিক পরিমাপ পদ্ধতিসমূহের যথার্থতা নির্ধারণ, গুণগতমান নিরূপনকারী ও রাসায়নিক পরিমাপ যন্ত্রপাতির পরিস্থাপন যোগ্যতা, পরিচালন যোগ্যতা, গবেষণাগারের মান ব্যবস্থাপনা, পরিমাপক যন্ত্রপাতি ও পদ্ধতির উন্নয়ন ও গবেষণা সিআরএম (সার্টিফাইড রেফারেন্স ম্যাটেরিয়াল) উৎপাদন, আন্ত:গবেষণার তুলনা তথা রাসায়নিক পরিমাপ বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট সকল সেবা প্রদানের পর্যাপ্ত সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বমানের এই গবেষণাগারটির বর্তমান নামকরণ করা হয়েছে ডেজিগনেটেড রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্ট-ডিআরআইসিএম। বিগত ১০ জুন ২০১২ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিআরআইসিএম উদ্বোধন করেন।


গত ১০ জুন ২০১২ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ল্যাবরেটরি ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্ট উদ্বোধন করেন

 

খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্য তৈরীতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারকদের সহযোগিতার লক্ষ্যে গবেষণাঃ

নিরাপদ খাদ্য প্রস্ত্ততিতে এবং মানবস্বাস্থ্যের হুমকি দূর করার লক্ষ্যে শিল্প কারখানাসমূহকে গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পের আওতায় গবেষণাগার আধূনিকায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সংবেদনশীল যন্ত্র সংগ্রহ করা হয়। গবেষণাগার আধুনিকীকরণের মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্যে বিদ্যমান বিভিন্ন রাসায়নিকের উপস্থিতি ও খাদ্যমান নির্ণয়ে সক্ষম একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন সংস্থা ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারকদের বিশ্লেষণ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রকল্প সৃষ্ট সুবিধা হতে জুন, ২০১৪ পর্যন্ত ১৫৮৯ টি নমুনার ১২৪২২টি প্যারামিটার বিশ্লেষণ সেবা প্রদান করা হয়েছে।

 

অণুজীবের সাহায্যে খাদ্যসহ মূল্যবান দ্রব্য উৎপাদন ও নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট সম্পন্ন অণুজীব বৈচিত্র সংরক্ষণঃ
খাদ্যসহ মূল্যবান দ্রব্য উৎপাদনের জন্য উপকারী অণুজীব সনাক্তকরণ, বৈশিষ্ট নিরূপন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্র সৃষ্টির  লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্য তৈরী, অন্যান্য Value added পরিবেশ বান্ধব দ্রব্যাদি যেমন, এন্টিবায়টিক, এনজাইম, ফাঞ্জিসাইড তৈরী, উপকারী অণুজীবের Molecular-taxonomy নির্ণয় এবং patent right সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

 

টুলস্ ও বায়োমেটালিক ইমপ্ল্যান্টের জন্য বস্ত্তর উন্নয়নঃ

অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ বিশেষায়িত গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করে Tools এবং Human Implant এর জন্য metallic এবং non-metallic material নির্বাচন ও মানোন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) সমূহের হালকা প্রকৌশল খাতকে সহায়তার লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে টুলস্ ও ইমপ্ল্যান্টের জন্য metal/materials নির্বাচন ও উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া, উদ্ভাবনগুলো থেকে স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে। ফলে দারিদ্র বিমোচন, নারীর অংশগ্রহনের মাধ্যমে সাধারণ জনগনের জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে BCSIR-এ Tools ও implant-এর উপর আধুনিক গবেষণা চালানো সম্ভব হচ্ছে। বছরে প্রায় ৪১৪.০০ কোটি টাকার টুলস্ ও ইমপ্ল্যান্ট আমদানী হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে টুলস্ ও ইমপ্ল্যান্টের জন্য বস্ত্ত নির্বাচন, উন্নোয়নের কারিগরী পদ্ধতি উদ্ভাবন হয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে দেশের আমদানি নির্ভরতা কমেছে।

ম্যাটেরিয়াল ডেভেল্পমেন্ট ফর টুলস ও বায়োমেটালিক ইমপ্ল্যান্ট গবেষণাগার

 

বিসিএসআইআর-এর চট্টগ্রাম ও রাজশাহী কেন্দ্রের এনালাইটিক্যাল ও মাইক্রোবিয়াল ল্যাবরেটরী শক্তিশালীকরণঃ

বিসিএসআইআর-এর চট্টগ্রাম এবং রাজশাহী কেন্দ্রের এনালাইটিক্যাল এবং মাইক্রোবিয়াল গবেষণাগার শক্তিশালীকরনের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আওতায় মুরগির বার্ড ফ্লু-এর নমুনা পরীক্ষা, মাছ, চিংড়ি ও আলুর ক্ষতিকারক ভাইরাস সনাক্তকরণ, আমদানিকৃত প্রাণীখাদ্যে শূকরের মাংস, জিএমও এবং এন্টিবায়োটিক-এর উপস্থিতি পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিদেশ হতে আমদানীকৃত বিভিন্ন ধরনের পণ্যে (খাদ্য-দ্রব্য, ফলমূল, শাক-সবজি ইত্যাদি) উপস্থিত পেস্টিসাইড (মেলাথিয়ন, ফিপ্রোনিল, ক্লোরফাইরিফস্, ইমিডাক্লোরপ্রিড, থায়োমেথক্সেম, সাইপারমেথ্রিন), এন্টিবায়োটিকস্ (ক্লোরামফেনিকল, টেট্রাসাইক্লিন) ইত্যাদির উপস্থিতির পরিমাণ নির্ণয় করা হয়। বাংলাদেশ পশুসম্পদ গবেষণাগারের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি প্রদান সাপেক্ষে বাংলাদেশে প্রথম বারের মত দেশীয়জাতের গরু, মহিষ, ভেড়া এবং ছাগলের ডিএনএ বার কোডিং কাজ শুরু হয়েছে।  এছাড়া, বিভিন্ন প্রকার ঔষধের গুণগত মান নির্ণয়, খাদ্যদ্রব্য, ফলমূল শাক-সবজি, মাছ ইত্যাদিতে ফরমালিনের উপস্থিতি এবং হার্বিসাইডের  পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য মেথড উন্নয়নের কাজ চলছে।

 

ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল এনালাইটিক্যাল রিসার্চ এন্ড সার্ভিসঃ

একটি আধুনিক বিশ্লেষণ গবেষণা ও সেবা ইনস্টিটিউট স্থাপনপূর্বক বিশ্লেষণ সেবার মান আইএসও ১৭০২৫ মানে উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে এই আন্তর্জাতিক মানের বিশ্লেষণ প্রদানের লক্ষ্যে ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল এনালাইটিক্যাল রিসার্চ এন্ড সার্ভিস স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে পানি, পানীয়, ভোগ্যপণ্য, ‌ওষুধ, ইত্যাদিতে ভারী ও ক্ষতিকর ধাতু, বিভিন্ন দূষণদ্রব্য ও ক্ষতিকারক সংরক্ষণ দ্রব্যের গ্রহণযোগ্যতা পরিমানগত পরীক্ষণপূর্বক বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দূষণ বিষয়ে জনসচেতনা বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের বিশ্লেষণ প্রদানের মাধ্যমে শিল্প প্রতিষ্ঠান সমূহকে কাঙ্খিত মানের পণ্য উৎপাদনে, দেশের রফতানি উন্নয়নে সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে শিল্পপণ্য, ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালের গুনাগুণ নির্ধারনে সহায়তা প্রদান করা যাবে। এছাড়া, রাসায়নিক পরীক্ষণ, বিশ্লেষণ বিজ্ঞান এবং গবেষণাগারের মান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উপর গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।

 

জয়পুরহাটস্থ ইনস্টিটিউট অব মাইনিং, মিনারোলজি এন্ড মেটালার্জি শক্তিশালীকরণঃ

প্রকল্পের মাধ্যমে ৬২টি অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, যেমন-AAS, FTIR, ICP-MS, Distillation Apparatus, Elemental Analyzer (CHNSO), Induced Roll Magnetic Separator, Electrostatic Plate Separator, Bomb Calorimeter, ইত্যাদিসহ বিভিন্ন অফিস সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। তাছাড়া, বিভিন্ন ভৌত নির্মাণ সম্পন্ন করে ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বহ্মপুত্র নদীর বালু থেকে খনিজ পদার্থ পৃথকীকরণ, পৃথকীকরণ খনিজ থেকে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল প্রডাক্ট তৈরি (যেমন ওয়েল্ডিং রড়, কাচবালি, টাইলস প্রভৃতি), বড়পুকুরিয়ার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফ্লাইআ্যাশ থেকে অ্যালুমিনিয়াম পৃথকীকরণ, অ্যালুমিনিয়াম দ্বারা উচ্চতাপ ও চাপ সহনশীল সংকর ধাতু তৈরি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে আইএমএমএম উদ্বোধন করেন

 

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি
 

এনহ্যান্সমেন্ট অব রিসার্চ ফ্যাসিলিটি অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজিঃ

প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত সুবিধাদি ব্যবহার করে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশি হাঁসের জেনেটিক বৈচিত্র্যের মাধ্যমে আদি জাত নির্ণয়, মুরগীর নিউক্যাসেল রোগ নির্ণয়ে ঘৃতকুমারীর ঔষধি ভূমিকা, ধানের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবেশবান্ধব জীবাণুসার উদ্ভাবন ও উৎপাদন, ইলিশ মাছের জেনেটিক বৈচিত্র্য নির্ণয়, ক্রয়োপ্রিজারভেশন পদ্ধতিতে ভাঙ্গন মাছের শুক্রাণু সংরক্ষণ, অণুজীব হতে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহার উপযোগী পরিবেশবান্ধব এনজাইম উদ্ভাবন ও উৎপাদন, বস্ত্র্র শিল্পে ব্যবহার উপযোগী পরিবেশবান্ধব এনজাইম উন্নয়ন ও উৎপাদন, স্বল্প ব্যয়ে ট্যাক পলিমারেজ এনজাইম উৎপাদন, অপরাধী সনাক্তকরণ ও পিতৃত্ব মাতৃত্ব নির্ণয়ে ডিএনএ প্রোফাইলিং সেবা প্রদান এবং মসলাজাতীয় উদ্ভিদের টিস্যুকালচার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত যন্ত্রপাতি ও আনুসঙ্গিক সুবিধাদি ব্যবহার করে এনআইবি’র চলমান গবেষণা কার্যক্রম গবেষণাগার থেকে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি'র ক্যাম্পাস

এনআইবি-তে গবেষণারত বিজ্ঞানীরা

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার
 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার শক্তিশালীকরণ প্রকল্প:
প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪টি সাইন্টিফিক এবং ১৬টি ডিজিটাল এক্সিবিটস্ স্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞানের এসমস্ত অত্যাধুনিক চমকপ্রদ সৃষ্টি অবলোকন এবং ব্যবহারের মাধ্যমে বিজ্ঞান সম্পর্কে দেশের জনগণ বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্দীপনার সৃষ্টি হবে। ৫টি নতুন ডিজিটাল ফিল্ম ক্রয় করা হয়েছে। এগুলো প্রদর্শনীর মাধ্যমে মহাকাশের বিভিন্ন বিষয় এবং অসীম মহাকাশের রহস্য, সূর্য সম্পর্কিত তথ্য, ব্ল্যাকহোল, গোল্ডিলক সম্পর্কিত অজানা রহস্যের দ্বার জনগণের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে। মানব জাতির আকাশ জয়ের চেষ্টা এবং এ ব্যাপারে এযাবৎ কালের সাফল্য জনগণ জানতে পারছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের একমাত্র প্ল্যানিটেরিয়াম-এ জিটাল প্রযুক্তিসমৃদ্ধ প্রজেকশন সিস্টেমের প্রবর্তন করায় বাংলাদেশর জনগণ বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী উপভোগের সুযোগ পাবে।

এছাড়া, প্রকল্পের অধীনে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক জীবন সংগ্রামের উপর নির্মিত ৩০ মিনিটের লার্জ ফরম্যাট ডিজিটাল ফিল্ম-এর প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশর জনগণ বিশেষ করে শিশু কিশোর শিক্ষার্থীরা অর্থাৎ দেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক জীবন সংগ্রাম এবং এদেশের স্বাধীনতায় তাঁর অবদানের বিষয়ে ধারণা পাবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার

লার্জ ফরম্যাট ডিজিটাল ফিল্ম: ৭ মার্চ ১৯৭১ এর ঐতিহাসিক ভাষণ

 

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর ১৭.৩০ কোটি টাকায় ‘‘জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের গ্যালারীসমূহের জন্য প্রদর্শনীবস্ত্ত সংগ্রহ ও তরুণ বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনীমূলক কাজে উৎসাহ প্রদান’’  প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজ সম্পন্ন করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন বিদেশী ও দেশীয় প্রদর্শনীবস্ত্ত সংগৃহীত হয়েছে।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের ক্যাম্পাস

 

বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিভিন্নমুখী চাহিদা মেটানোর জন্য সমুদ্র সম্পদের উপর গবেষণা তথা সমুদ্র সম্পদ সনাক্তকরণ, আহরণ এবং এর সর্বোচ্চ ও বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ‘বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট' স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ৪০ একর জমিতে এ প্রতিষ্ঠান নির্মাণের লক্ষ্যে ১০২.৩৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০০০ থেকে জুন ২০১৬ মেয়াদে ‘বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন (১ম পর্যায়)' শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

কক্সবাজারের রামুতে নির্মাণাধীন বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনিস্টটিউট

এই ইনস্টিটিউটের মূল উদ্দেশ্য হলো: (১) সমুদ্র বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান দিয়ে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের সক্ষমতা অর্জন, (২) দেশের বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সমুদ্র বিজ্ঞান বিষয় পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উৎসাহ প্রদান, (৩) পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় যেমন: (ক) সমুদ্র উপকূল ও গভীর সমুদ্রের স্রোতের গতিবিধি নিরূপণ, দ্বীপ গঠন ও পুনগর্ঠন, সমুদ্র দূষণরোধ, উপকূলীয় প্রাকৃতিক দূর্যোগসমুহের প্রকৃতি নির্ধারণ ও কার্যকরভাবে মোকাবেলার উপায় উদ্ভাবন, (খ) জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয় যেমন: কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নি:সরণ, ওজোন স্তর ক্ষয়, বরফ গলন, কোরাল বিলুপ্তি, (৪) তেল ও গ্যাস আহরণ ইত্যাদির উপর গবেষণা এবং (৫) দেশের যে সকল প্রতিষ্ঠান সমুদ্র বিজ্ঞান গবেষণার সাথে জড়িত রয়েছে সেসকল প্রতিষ্ঠানকে গবেষণা এবং পর্যবেক্ষণের সুবিধা প্রদান।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে মূল ইনস্টিটিউট ভবন, পরিচালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবনসহ অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য একটি আইন প্রণয়নের কাজও চলছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সমুদ্র বিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ সহজতর হবে এবং নূতন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশ আরো সমৃদ্ধশালী হবে।


Share with :